দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র বলে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন গলা পর্যন্ত ডুবে আছে ঋণে। আন্তর্জাতিক মুদ্রাভান্ডার (IMF) জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে আমেরিকার জাতীয় ঋণ জিডিপির ১৪৩ শতাংশে পৌঁছতে পারে যা ইটালি ও গ্রিসের থেকেও বেশি। এক শতাব্দীতে এই প্রথমবার এমন ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে চলেছে ওয়াশিংটন।
আইএমএফ এর সতর্কবার্তা: এক দশকে আমেরিকার ঋণ বাড়বে ভয়ঙ্কর হারে
আইএমএফ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকার ঋণ ছিল জিডিপির প্রায় ১২৩ শতাংশ, যা ২০৩৫ সালে গিয়ে ১৪৩.৪ শতাংশে পৌঁছবে। অন্যদিকে, একই সময়ে ইটালি ও গ্রিসের ঋণ জিডিপির ১৩৭ ও ১৩০ শতাংশে নেমে আসবে। অর্থাৎ, ধার নিরিখে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলির অন্যতম।
কী কারণে এমন ভয়াবহ অবস্থায় আমেরিকা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপদের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ—
-
অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়: প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও বৈদেশিক অভিযানগুলোতে বছরের পর বছর ধরে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে আমেরিকা।
-
রাজস্ব ঘাটতি: কর আদায়ের হার কমে যাওয়ায় আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ।
-
উচ্চ সুদের হার: সুদের অঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন সরকার মূল ঋণ শোধ না করে কেবল সুদ দিচ্ছে।
-
কোভিড পরবর্তী ঋণের বোঝা: মহামারির সময় অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে অতিরিক্ত ১৬ লক্ষ কোটি ডলার ঋণ নেয় ওয়াশিংটন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৩৮ লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন গড়ে বাড়ছে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার করে।
আমেরিকান নাগরিকের মাথায় কত ঋণ?
ফেডারেল রিজ়ার্ভের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের মাথায় গড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ডলার ঋণ রয়েছে।
প্রতি বছর কেবল সুদ বাবদ খরচ হচ্ছে এক লক্ষ কোটি ডলার, যা আমেরিকার শিক্ষা ও পরিবহণ খাতের ব্যয়ের থেকেও বেশি!
Trump এর অর্থনীতি কি খাদের ধারে?
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড Trumpনেতৃত্বে সরকারি খরচে কিছুটা কাটছাঁট করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং, শুল্কযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে শিল্পখাতে ব্যয় বেড়েছে। ফলে মার্কিন মুদ্রার মান কমছে, আর্থিক আস্থা নড়বড়ে হচ্ছে।
আইএমএফ সরাসরি সতর্ক করেছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যুক্তরাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়তে পারে যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে।
বিপদের মুখে সুপার পাওয়ার মর্যাদা
ইওয়াই ইকোনমিক ওয়াচ এর সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ বছরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে ভারত, আর প্রথম স্থানে থাকা আমেরিকার গদি টলতে পারে।
চিন ইতিমধ্যেই এগিয়ে আসছে, আর ওয়াশিংটন সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে ঋণের চাপে।
সারসংক্ষেপ:
এক সময় যে দেশ অন্যদের অর্থনৈতিক দিশা দেখাত, আজ সেই Trump এরআমেরিকা নিজেই ঋণের জালে বন্দি। যদি দ্রুত নীতি পরিবর্তন না হয়, তবে পরবর্তী দশকে বিশ্বে সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এমনই আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।
ডিসক্লেমার এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লেখা। সব আর্থিক তথ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা (IMF) ও সরকারি সূত্রের উপর ভিত্তি করে সংগৃহীত। প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থার হাল জানার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুসরণ করুন।
Also read Gold বিনিয়োগ: ডিজিটাল Gold নাকি ফিজিক্যাল Gold, কোন পথে এগাবেন আপনার সঞ্চয় এবং আবেগ?