ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এবার দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান ‘তেজস মার্ক-১এ’ পেতে চলেছে এক আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বয়ং রক্ষাকবচ (Swayam Rakshakabach)। এই এয়ারবোর্ন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট’ বানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) যা শত্রুপক্ষের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রের নজর এড়াতে সাহায্য করবে।
কী এই স্বয়ং রক্ষাকবচ?
DRDOএর বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ভারতের নিজস্ব এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AWACS) বা সহজভাবে বললে আকাশের রক্ষাকবচ। এর মূল কাজ হবে শত্রুর রাডার সিগন্যাল, রেডিয়ো যোগাযোগ ও বৈদ্যুতিন যুদ্ধ ব্যবস্থা (Electronic Warfare) ব্যাহত করা।
এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ইন্টিগ্রেটেড রাডার ওয়ার্নিং রিসিভার যা শত্রুর রাডার তরঙ্গ শনাক্ত করে তা ‘জ্যাম’ করতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষ সহজে তেজস বিমানের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারবে না।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
-
রাডার সতর্কতা ব্যবস্থা (Radar Warning Receiver): এটি শত্রুর রাডার সিগন্যাল শনাক্ত করে পাইলটকে সতর্ক করে দেয়।
-
রাডার জ্যামিং: সিস্টেমটি শত্রুর রাডার সিগন্যাল বিঘ্নিত করে, যাতে তেজসকে ট্র্যাক করা না যায়।
-
মিসাইল সতর্কতা: শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার আগেই ‘স্বয়ং রক্ষাকবচ’ আগাম সতর্কবার্তা দেয়।
-
ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজারস: এটি শত্রুপক্ষের রেডিও যোগাযোগ বা ইলেকট্রনিক কমান্ড সিস্টেম অচল করে দিতে পারে।
এই প্রযুক্তি থাকলে যুদ্ধের আকাশে তেজস যুদ্ধবিমান হবে অনেক বেশি নিরাপদ ও অদৃশ্য (stealth-like)।
আত্মনির্ভর ভারত এর এক বড় পদক্ষেপ
এর আগে DRDO D-29 নামে একটি সিস্টেম তৈরি করেছিল মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের জন্য। এবার তেজস এর জন্য আরও উন্নত সংস্করণ স্বয়ং রক্ষাকবচ বানিয়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভারত এক নতুন অধ্যায় শুরু করল।
এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত, যা ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের (Aatmanirbhar Bharat Defence Initiative) সাফল্যের প্রতীক।
ভারতের ‘অ্যাওয়াক্স’ শক্তির নতুন অধ্যায়
আমেরিকার AWACS প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এবার ভারতের ‘স্বয়ং রক্ষাকবচ’ সেই ধাঁচেই তৈরি হয়েছে, কিন্তু ভারতীয় যুদ্ধবিমানের উপযোগী করে। এই সিস্টেম বসানো হবে ‘হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি তেজস মার্ক-১এ বিমানে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই সিস্টেমের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, এবং খুব শিগগিরই এটি ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে পৌঁছবে।
সারসংক্ষেপ:
স্বয়ং রক্ষাকবচ’ শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার এক নতুন যুগের সূচনা। ডিআরডিও ও হ্যাল-এর যৌথ প্রয়াসে তৈরি এই সিস্টেম তেজস যুদ্ধবিমানকে করবে আরও শক্তিশালী, আরও নিরাপদ এবং একদম Made in India।
ডিসক্লেমার এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। প্রকৃত কারিগরি তথ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে ডিআরডিও ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অফিসিয়াল সূত্রে নজর রাখুন।
Also read IRCTC বিকল্প: ওয়েটিং টিকিটেও এখন কনফার্ম সিট! যাত্রীদের জন্য সুখবরের ঝড় ভারতীয় রেলে