পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কখনও রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়নি। বরং দুই দেশ সবসময় একে অপরের সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। সোভিয়েত যুগে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় রাশিয়ার সমর্থনকে আজও ভারতীয়রা স্মরণ করে। পুতিনের মতে, ভারত এই বন্ধুত্ব ভুলে যায়নি এবং রাশিয়াও সেটিকে গভীরভাবে মূল্য দেয়।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রাশিয়ার নতুন পরিকল্পনা
বর্তমানে ভারত বিপুল পরিমাণ রুশ ক্রুড অয়েল আমদানি করছে, যার ফলে বাণিজ্য ভারসাম্যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুতিন জানান, রাশিয়া ভারতের কাছ থেকে আরও কৃষিজ পণ্য ও ওষুধ কিনতে আগ্রহী। এতে শুধু ঘাটতি কমবেই না, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
মোদীর প্রতি পুতিনের আস্থা
পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তার বন্ধু হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তিনি মোদীকে সন্তুলিত, জ্ঞানী ও জাতীয়তাবাদী নেতা বলে আখ্যা দেন। পুতিন বিশ্বাস করেন, ভারতীয় জনগণ কখনও বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না, আর মোদীও দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
মার্কিন চাপ বনাম ভারতের স্বাধীন সিদ্ধান্ত
পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে ভারত রুশ তেল আমদানি চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, যদি ভারত আমদানি বন্ধ করে তবে প্রায় ৯-১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে, আবার যদি আমদানি চালিয়ে যায় তবে নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়বে। কিন্তু ভারতীয় জনগণ দেশের সম্মান রক্ষার জন্য আপস করবে না। এর ফলে ভারত কেবল আর্থিক সুবিধাই পাবে না, বরং একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে তার মর্যাদাও বাড়বে।
ভবিষ্যতের সহযোগিতা: প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব
ভারতও রাশিয়া ইতিমধ্যেই বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির ১৫ বছর উদযাপন করতে চলেছে। পুতিন জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একসাথে কাজ করে। এছাড়াও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়নে একটি যৌথ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও তিনি স্বাগত জানান।
উপসংহার
পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও প্রমাণ করল, ভারতও রাশিয়ার সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং গভীর আস্থা ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নতুন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ডিসক্লেইমার এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও প্রকাশ্য সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক এবং কোনো পক্ষকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে নয়।
Also read দুই বছরের রক্তক্ষয়ের পর গাজায় শান্তির ডাক