বিশ্বজোড়া কৌতূহলের জন্ম দিয়েছেন টেসলার সিইও এলন মাস্ক। এবার তিনি জানিয়েছেন এমন এক খবর, যা শুনে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে আবারও জেগেছে উন্মাদনা। মাস্ক বলেছেন, ২০২৫ সালের শেষের আগে টেসলার প্রথম “উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ বিশ্বের সামনে আসবে আর সেটি হবে একেবারে অবিস্মরণীয়!
জনপ্রিয় পডকাস্ট The Joe Rogan Experience-এ অংশ নিয়ে মাস্ক বলেন, আমরা প্রোটোটাইপ দেখানোর খুব কাছাকাছি আছি। আমি গ্যারান্টি দিতে পারি, এই প্রোডাক্ট ডেমো অবিস্মরণীয় হবে।
গাড়ি না বিমান? Elon Musk এর নতুন রহস্য
যখন সঞ্চালক জো রেগান তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন এটা কি সত্যিই উড়বে? Elon Musk হেসে উত্তর দেন, “আমি উন্মোচনের আগে উন্মোচন করতে পারি না।” কিন্তু তিনি যোগ করেন, এটা হতে পারে টেসলার সবচেয়ে স্মরণীয় প্রোডাক্ট ডেমো।
তাঁর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে যে এটি হয়তো VTOL (Vertical Take-Off and Landing) প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ি হতে পারে অর্থাৎ, ড্রোন বা হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্বভাবে উড়ে উঠতে ও নামতে পারবে।
মাস্ক আরও বলেন, এই গাড়িতে আছে এমন প্রযুক্তি যা এক কথায় ‘পাগলাটে’। এটা এতটাই আলাদা যে প্রশ্ন জাগে এটা আদৌ গাড়ি তো?
জেমস বন্ডকেও হার মানাবে এই প্রযুক্তি
Elon Musk রসিক ভঙ্গিতে বলেন, যদি জেমস বন্ডের সব গাড়িকে একসঙ্গে মেশাও, তবুও এটা তার চেয়েও পাগলাটে! এই মন্তব্যের পর থেকেই টেকপ্রেমী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা টেসলা কি সত্যিই তৈরি করছে ভবিষ্যতের উড়ন্ত স্পোর্টস কার?
এই প্রোটোটাইপ সম্ভবত টেসলার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টার এর এক নতুন সংস্করণ হতে পারে, যা উড়ন্ত ফিচার যুক্ত করে সম্পূর্ণ আলাদা রূপ নিতে চলেছে।
অতীতের প্রতিশ্রুতির মতোই কি আবার বিলম্ব?
এলন মাস্কের ঘোষণাগুলির ইতিহাস বলছে, তাঁর প্রকল্পগুলির অনেকগুলোই প্রত্যাশার তুলনায় দেরিতে বাস্তবায়িত হয়েছে যেমন হাইপারলুপ, রোবোট্যাক্সি কিংবা মার্স কলোনি প্রকল্প। তবুও, তাঁর সাহসী স্বপ্ন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্যই টেসলা আজ বৈদ্যুতিক গাড়ির দুনিয়ায় পথপ্রদর্শক।
এই কারণেই, অনেকেই মনে করছেন যদিও এটি উড়ন্ত গাড়ি এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ না ও হতে পারে, কিন্তু এটি প্রযুক্তির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
ভবিষ্যতের যাত্রা শুরু হতে চলেছে
১৯৫০ সাল থেকেই বিশ্বের নানা সংস্থা উড়ন্ত গাড়ির চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত জটিলতা, নিরাপত্তা বিধি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত সমস্যায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন দেখার বিষয়, এলন মাস্ক ও টেসলা কি সেই সীমা ভেঙে ভবিষ্যতের গতি পরিবর্তন করতে পারে কিনা।
একটি উক্তি দিয়ে শেষ করা যায় —
যে মানুষ আকাশের সীমা ছুঁতে চায়, তার স্বপ্নকেও মাটি আটকাতে পারে না।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনের সমস্ত তথ্য ও উদ্ধৃতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সাক্ষাৎকার সূত্র থেকে সংগৃহীত। টেসলার প্রকল্প সংক্রান্ত সময়সূচি বা ফলাফল ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। পাঠকদের প্রতি পরামর্শ তথ্য যাচাই করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিন।
Also read