ভারতের প্রতিটি কৃষক জানেন মাঠে রোদ-বৃষ্টি-ঝড় যেমন স্বাভাবিক, তেমনি অনিশ্চিত। কখনও হঠাৎ বন্য প্রাণীর আক্রমণে মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যায় মাসের পর মাসের পরিশ্রম। আবার কখনও অতিবৃষ্টিতে পাড়ি জলে ডুবে নষ্ট হয় পুরো ধানের খেত। এতদিন পর্যন্ত এসব ক্ষতির জন্য কোনও সরকারি বীমা সুরক্ষা ছিল না। কিন্তু এবার কৃষকদের সেই দীর্ঘ দিনের আশাই পূরণ হতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক ২০২৬ সালের খরিফ মৌসুম থেকে বন্য প্রাণীর আক্রমণে ফসল ক্ষতি এবং ধানের পাড়ি জলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হওয়া এই দুই পরিস্থিতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে PM Fasal Bima Yojana (PMFBY)-এর আওতায় আনার ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
কেন এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?
অনেক বছর ধরেই ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, কেরালা, উত্তরাখণ্ড এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো বন্য প্রাণীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। হাতি, নীলগাই, বানর, বুনো শুয়োর এদের আক্রমণে অনেক কৃষকের ফসল মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যায়।
অন্যদিকে, উপকূলীয় ও নদীপারের রাজ্যগুলোতে ভারী বর্ষণে ধানের খেত ডুবে যাওয়ার প্রবণতা প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায়। ২০১৮ সালে এই কভারটি বাতিল করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি দেখে তা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই দুটি সমস্যা হাজার হাজার কৃষকের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং তাই নতুন এই সিদ্ধান্ত কৃষি সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনে দেবে।
PMFBY-তে যুক্ত হল নতুন Add-on Cover কী কী সুবিধা পাবেন কৃষকরা?
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের ঘোষণায় বলা হয়েছে
-
বন্য প্রাণীর আক্রমণ এখন PMFBY-র পঞ্চম Add-on Cover
-
রাজ্যগুলি নিজেদের এলাকায় কোন কোন প্রাণী ফসল নষ্ট করছে তার তালিকা প্রকাশ করবে
-
কোন জেলা বা ব্লক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তাও নির্ধারণ করা হবে ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে
-
কৃষকদের ক্ষতির রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে Crop Insurance Appএর মাধ্যমে দিতে হবে
(Geotagged ছবি আপলোড করে)
এভাবে রিপোর্ট করার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দ্রুত এবং প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতিতে কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।
পাড়ি জলে ক্ষতিগ্রস্ত ধানের খেত পুনরায় বিমার আওতায় ফিরল
২০১৮ সালের পর পাড়ি জলে ডুবে যাওয়া ধানকে বিমার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কারণ—
-
মূল্যায়ন কঠিন
-
নীতিগত ঝুঁকি
-
সম্ভাব্য অপব্যবহার
কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা গেছে উপকূলীয়, নদীপারের এবং বন্যাপ্রবণ রাজ্যগুলিতে ধানের ক্ষতি অত্যন্ত বড় পরিমাণে হচ্ছে।
তাই
- ওডিশা
- পশ্চিমবঙ্গ
- আসাম কেরালা
- কর্ণাটক
- তামিলনাড়ু
- উত্তরাখণ্ড
- মহারাষ্ট্র
এই রাজ্যগুলির কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
PMFBY বিমা পেতে কী করতে হবে?
নতুন নিয়মে কৃষকদের করতে হবে
-
ক্ষতির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট
-
Crop Insurance App-এ খেতের geotagged ছবি আপলোড
-
স্থানীয় কৃষি দপ্তর ক্ষতি যাচাই করে রিপোর্ট করবে
-
প্রযুক্তি-নির্ভর যাচাইয়ের ভিত্তিতে দ্রুত টাকা কৃষকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে
এতে জাল দাবি কমবে, যাচাই সহজ হবে, এবং ক্ষতিপূরণ দ্রুত পাওয়া যাবে।
PMFBY কতটা সফল এখন পর্যন্ত?
২০১৬ খরিফ মৌসুমে শুরু হওয়ার পর থেকে
-
৩৬ কোটি কৃষকের আবেদন প্রক্রিয়া হয়েছে
-
₹১.৮২ লাখ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে
-
দেশের সবচেয়ে বড় কৃষি বীমা প্রকল্প হিসেবে পরিচিত
এই প্রকল্প কৃষকদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কোন কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে?
বন্য প্রাণীর আক্রমণ যেখানে বেশি
-
ওডিশা
-
ঝাড়খণ্ড
-
মধ্যপ্রদেশ
-
কর্ণাটক
-
কেরালা
-
মহারাষ্ট্র
-
তামিলনাড়ু
-
উত্তরাখণ্ড
-
আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, সিকিম
পাড়ি জলে ধান নষ্ট হয় এমন রাজ্য
-
পশ্চিমবঙ্গ
-
ওডিশা
-
কেরালা
-
তামিলনাড়ু
-
আসাম
-
মহারাষ্ট্র
-
কর্ণাটক
-
উত্তরাখণ্ড
এই সিদ্ধান্তে এই সব রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
শেষ কথা: কৃষকদের জন্য সত্যিই বড় সুখবর
বন্য প্রাণীর হামলা আর জলাবদ্ধতার কারণে ফসল নষ্ট হওয়া বহু কৃষকের জীবনে দুঃস্বপ্ন ছিল। এবার সেই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে PMFBY। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, দ্রুত ক্ষতিপূরণ, এবং পরিষ্কার নিয়ম সব মিলিয়ে এই নতুন আপডেট কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের মতো।
Disclaimer এই আর্টিকেলের তথ্য সরকারি বিবৃতি ও রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। নীতিতে কোনও পরিবর্তন বা আপডেট এলে কৃষকদের অবশ্যই কৃষি মন্ত্রকের অফিসিয়াল নোটিফিকেশন দেখে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।