আজকের ডিজিটাল যুগে ইমেইল ছাড়া একদিনও চলা যায় না। অফিস হোক বা ব্যক্তিগত কাজ, সবকিছুই এখন মেইলেই নির্ভর করছে। এতদিন পর্যন্ত আমরা সবাই প্রায় গুগলের জিমেইলেই স্বচ্ছন্দ ছিলাম। কিন্তু এখন বাজারে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান Zoho Corporation 1এর তৈরি Zoho Mail।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী পর্যন্ত জিমেইল ছেড়ে Zoho Mail এ যোগ দিয়েছেন, আর তারপর থেকেই সবাই জানতে চাইছেন জোহো মেইল এত জনপ্রিয় কেন?
চলুন দেখি, জোহো মেইল ও জিমেইল এর মধ্যে আসলে কী পার্থক্য, কী সুবিধা, আর চাইলে কীভাবে আপনি নিজেও সহজে বদলাতে পারেন।
Zoho Mail: কীভাবে আলাদা?
Zoho Mail মূলত গোপনীয়তা ও বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতা-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ইমেইল প্ল্যাটফর্ম। কোম্পানিটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা ব্যবহারকারীর ইমেইল-ডেটা কোনোভাবে বিজ্ঞাপন বা বিপণনের কাজে ব্যবহার করবে না। অর্থাৎ, আপনি নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন, আপনার ইনবক্সে থাকবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচার নয় শুধু প্রয়োজনীয় বার্তা।
অন্যদিকে, জিমেইল যদিও অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ব্যবহারবান্ধব, তবুও গুগলের পরিষেবাগুলির সঙ্গে এটি এতটাই সংযুক্ত যে, বিজ্ঞাপন ও তথ্য-প্রসেসিং থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব নয়।
ফিচার তুলনা: কী কী সুবিধা পাবেন
বড় ফাইল পাঠানো
Zoho Mail-এ একবারে ১ GB পর্যন্ত ফাইল অ্যাটাচ করা যায়। ফাইলটি যদি তারও বেশি বড় হয়, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউড লিংকে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
জিমেইলে এই সীমা মাত্র ২৫ MB। ফলে বড় প্রেজেন্টেশন, ভিডিও, বা অফিস ডকুমেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে Zoho অনেক সুবিধাজনক।
পাঠানো মেইল ফেরত আনার সুযোগ
Zoho Mail-এর আরেকটি বিশেষত্ব হলো, আপনি চাইলে পাঠানো ইমেইল রিকল করতে পারবেন, এমনকি “সেন্ড” করার মিনিট খানেক পরেও। প্রাপককে জানানো হবে যে মেইলটি রিকল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, Gmail-এ কেবল কয়েক সেকেন্ডের Undo Send অপশন রয়েছে যদি তখন খেয়াল না করেন, আর ফেরানো সম্ভব নয়।
এআই সহকারী Zia
Zoho Mail-এ রয়েছে Zia নামে একটি AI সহকারী, যা আপনাকে ইনবক্স সাজাতে, ইমেইল লিখতে এবং বার্তার টোন নির্ধারণে সাহায্য করে। শুধু কয়েকটি শব্দ লিখলেই এটি সম্পূর্ণ ইমেইল সাজেস্ট করে দেয়।
জিমেইলেও Gemini AI ও Smart Reply-এর মতো ফিচার আছে, তবে Zia বেশি কাস্টমাইজযোগ্য এবং গোপনীয়তায় জোর দেয়।
একসাথে অনেক টুল
Zoho Mail শুধু মেইল নয়, এর সঙ্গেই আপনি পাবেন Calendar, Tasks, Notes, Contacts ও Bookmarks।
অফিসে টিমওয়ার্কের জন্য আছে Zoho Streams, যেখানে পোস্ট করা, ট্যাগ করা, টাস্ক অ্যাসাইন বা ইভেন্ট তৈরি করা যায়একদম Slack-এর মতো সহযোগী ব্যবস্থা।
উন্নত নিরাপত্তা
Zoho Mail এ রয়েছে TLS এনক্রিপশন ও S/MIME ডিজিটাল সিগনেচার। ফলে মেইল ট্রান্সফার এবং সার্ভারে সংরক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই আপনার তথ্য নিরাপদ থাকে।
এর পাশাপাশি থ্রেট প্রোটেকশন, ফিশিং ডিটেকশন, VIP ইমপারসনেশন ব্লকিং এর মতো ফিচারও Zoho কে করে তোলে আরও নির্ভরযোগ্য।
দাম ও প্ল্যান তুলনা
-
Zoho Mail (Forever Free Plan):
১টি কাস্টম ডোমেইনের জন্য ৫ জন ব্যবহারকারী, প্রত্যেকে ৫ GB স্টোরেজ পাবেন। -
পেইড প্ল্যান:
প্রতি ব্যবহারকারী প্রতি মাসে মাত্র ₹৫৯ (বার্ষিক বিলিং) থেকে শুরু, যেখানে AI সহকারী Zia, MFA অ্যাপ ও অতিরিক্ত ফিচার পাওয়া যায়। -
Gmail (Google Workspace):
প্রাথমিক প্ল্যান শুরু ₹১৬০ থেকে, যার সঙ্গে Gemini AI, Drive স্টোরেজ, Meet ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
যাঁরা সীমিত বাজেটে একটি পেশাদার ইমেইল চান, তাঁদের জন্য Zoho Mail একটি সাশ্রয়ী বিকল্প।
জিমেইল থেকে Zoho Mail-এ বদলানোর ধাপে ধাপে গাইড
১️.Zoho Mail-এ সাইন আপ করুন:
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রি বা পেইড প্ল্যান নিন।
২️.Gmail-এ IMAP অ্যাক্সেস চালু করুন:
Gmail Settings → Forwarding and POP/IMAP → IMAP Enable করুন।
৩️.Zoho Mail Migration Wizard ব্যবহার করুন:
Zoho Mail-এর Import/Export বিভাগে যেয়ে Migration Wizard খুলুন। এখান থেকে আপনার পুরনো ইমেইল, ফোল্ডার ও কনট্যাক্ট সহজেই ট্রান্সফার হবে।
৪️.নতুন মেইল ফরওয়ার্ড করুন:
Gmail-এ ফরওয়ার্ডিং সেট করে দিন, যাতে নতুন মেইল আপনার Zoho ইনবক্সে এসে যায়।
৫️.সব অ্যাকাউন্টে ইমেইল ঠিকানা আপডেট করুন:
সোশ্যাল মিডিয়া, ব্যাংক, অনলাইন সার্ভিস সব জায়গায় আপনার নতুন Zoho ইমেইল যোগ করুন।
৬️.পরীক্ষা ও সময় দিন:
পুরনো বড় অ্যাকাউন্টে সব মেইল আসতে একটু সময় লাগতে পারে। ধৈর্য রাখুন ও সেটিংস চেক করুন।
কোনটা বেছে নেবেন?
Zoho Mail বেছে নেওয়ার কারণ:
-
বিজ্ঞাপন-মুক্ত ও গোপনীয়তা-নির্ভর ইনবক্স
-
কম মূল্যে পেশাদার ইমেইল সুবিধা
-
বড় ফাইল অ্যাটাচমেন্ট ও ইমেইল রিকল
-
দেশীয় প্রযুক্তি ও স্বদেশি সমর্থন
Gmail বেছে নেওয়ার কারণ:
-
গুগল ড্রাইভ, ডকস, মিট ও অন্য অ্যাপের সহজ ইন্টিগ্রেশন
-
উচ্চ মানের এআই সহায়তা ও স্মার্ট রিপ্লাই
-
অধিকাংশ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে সহজ লগইন অপশন
সংক্ষেপে বলা যায় যদি আপনার অগ্রাধিকার হয় গোপনীয়তা, স্বাধীনতা ও কম খরচ, তাহলে Zoho Mail আপনার জন্য সঠিক পছন্দ। তবে যদি আপনি গুগলের ইকোসিস্টেমে গভীরভাবে জড়িত থাকেন, তাহলে সম্পূর্ণ সুইচের আগে একটু চিন্তা ভাবনা করা ভালো।
ডিসক্লেমার এই নিবন্ধে উল্লেখিত সব তথ্য ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত Zoho Mail ও Gmail এর অফিসিয়াল ঘোষণার ভিত্তিতে রচিত। ভবিষ্যতে কোম্পানির নীতিমালা ও মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নতুন সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করে নিন।
Also read vivo Pad5e: Snapdragon 8s Gen 3 ও 10000mAh ব্যাটারির সঙ্গে আধুনিক ট্যাবলেট অভিজ্ঞতা