দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধ, তুমুল ধ্বংস ও মানুষের জীবন সর্বস্ব হয়ে যাওয়ার পর, গাজার আকাশ এখন একটুখানি শান্তির সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসে যেন কেবল ফিরে পাওয়া জীবনের আকাঙ্ক্ষা জেগে থাকে বাচ্চারা স্কুল যেতে চায়, পরিবার চায় পুনরায় একসাথে থাকা, মানুষ চায় নিরাপদে ঘুম। এই সব স্বপ্ন এখন যুদ্ধবিরতির আলোকে সামনে এনে দিচ্ছে কিছু নতুন প্রশ্ন আর আশা।
যুদ্ধবিরতির শোরগোল ও বন্দী মুক্তির শর্ত
গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ঘনিয়ে এসেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন, গাজার ওপর বিমান হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং বন্দীদের মুক্তির পথ খোলা থাকুক। অন্যদিকে হামাস একটি সমঝোতা প্রস্তুতের ইঙ্গিত দিয়েছে তারা বন্দীদের মুক্তি দিতে রাজি হতে পারে
এই প্রস্তাব বিয়োজন করে একটি শর্ত যে, যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলবে। তবে পুরোপুরি অস্ত্র ছাড়ার ব্যাপারে তারা স্পষ্টভাবে মুখ খুলেনি। ইসরায়েলও প্রথম ধাপ হিসেবে কিছু কার্যক্রম বন্ধের কথা বলেছে, তবে তার পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি।
সাধারণ মানুষের যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবন
গাজার মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশু প্রতিদিনই এক নতুন ট্রমা সহ্য করছে।
ব্রেকিং নিউজ নয়, তাদের জীবনের বাস্তবতা:
-
রাস্তার ধ্বংস, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়া
-
খাবার এবং চিকিৎসার অভাব
-
আশ্রয়হীন বহু মানুষ রাস্তায় থাকছে
-
মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে অনেক পরিবার
এই অবস্থায় শান্তির কোনো আভাস তাদের জন্য একটি চিরভাসা আশা।
আন্তর্জাতিক সহায়তা ও মধ্যস্থতা
গাজার শান্তি প্রক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে বহু দেশ মিশর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার ভূমিকা নিচ্ছে। তারা বলছে, যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার দরজা খোলা রাখা জরুরি। মানবিক সংস্থা ও দেশগুলোর পক্ষ থেকে ত ত্রাণ পাঠানো, আহতদের সেবা ও পুনর্বাসন উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগ সফল হবে তখনই, যখন রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে সত্যিকারের শান্তিচুক্তি গড়ে তোলা হবে।
নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা: গাজার ভবিষ্যত
যুদ্ধবিরতিতে যদি গাজার ওপর বোমাবর্ষণ থামে সেটা হবে প্রথম ধাপ।
বন্দী মুক্তি গেলে সেটি আবার অন্য এক প্রশান্তির সূচনা হতে পারে।
আলোচনা, সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ে সম্ভব হতে পারে এক নতুন দিন গড়ে তোলা।
বর্তমানে গাজার মানুষের হৃদয়ে শুধু একটি আশা শান্তি আসুক দ্রুত।
দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি বিভিন্ন সংবাদ উৎস ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রচিত। তথ্যসমূহ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল হতে পারে। শান্তি চুক্তি, যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল সূত্র ও সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করা জরুরি।
Also read ভারতওরাশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: পুতিনের বিশেষ ঘোষণা